সফল উদ্যোক্তার সাফল্য মাহাবুবুর রহমান ২০১০ সালের পূর্বের দিকে তাকালে আজকের অবস্থান আর অতীতের অবস্থানের পরিবর্তন আমাকে অবাক করে দেয়। কেননা, পূর্বেকার অবস্থায় আমাকে গ্রামের লোকজন তেমন ভাল চিনতনা, আজ আমার পাশে বসে গ্রামের মানুষজন তাদের কাঙ্খিত ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছেন। পলাশবাড়ী উপজেলাধীন ০৫নং মহদীপুর ইউনিয়নের বুজরুকবিষ্ণুপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও আমার স্বপ্ন ছিল তথ্য প্রযুক্তিগত সেবায় গ্রামীণ ব্যবস্থাকে উন্নত করার। আজ সমাজের সর্বস্তরে সেবাপ্রদানকারী হিসাবে সবার কাছেই পরিচিত হয়ে উঠেছি। পরিবারের দারিদ্রতার কষাঘাতে চরম হতাশায় কাটতেছিল দিন। এক সময় শুরু করি রেডিও মেকানিকের কাজ। আয় বাড়ানোর চিন্তা থেকে ২০০৯ সালে একটা কম্পিউটার কিনে তা দিয়েই তথ্য প্রযুক্তির আদলে হাতে খড়ি। নিজের কাজের পাশাপাশি এক সময় ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কাজ করতাম। বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রুপকল্প বাস্তবায়নের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে ২০১১ সালে নিয়োগ পাই। যোগদানের পরেই অন্ধকারাচ্ছন্ন পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠী যেখানে ২০০৯ সালেও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কীত কোন ধারণা ছিলনা, কেউ বোঝেনি ছেলে-মেয়ের ভর্তি ও পরীক্ষার ফলাফল হাতের নাগালে চলে আসবে। গ্রামের জনগোষ্ঠীকে তথ্য প্রযুক্তির আদলে এনে প্রয়োজনীয় সেবা সমূহ কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক কাজ, জনগণ কেন্দ্রীক সেবা দোড়গোড়ায় নিশ্চিত করণে প্রচেষ্টার অধিক সফলতায় আস্থা অর্জন সম্ভব হয়েছে। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে জনগণ কেন্দ্রীক সেবা সমূহ জনগণের দোড়গোড়ায় নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক ঘাতপ্রতিঘাতের মুখোমুখী হতে হয়েছে। অসম্ভবকে সম্ভবে রূপান্তরীত করার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তথ্য প্রযুক্তিগত সেবার মাধ্যমে দ্রুত হয়ে উঠি সাধারন মানুষের আস্থা অর্জনের প্রতীক।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস